২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার পর ইতালির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আন্দ্রেয়া পিরলোর নিয়োগ প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে এবার অদ্ভুত এক কারণে তাকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার নিয়োগ নিয়েই দেখা দিয়েছে গুরুতর সংশয়। আর এ কারণে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনিও সরে যেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে!
বিষয়টা জানিয়েছে ‘গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’। তাদের ভাষ্য, ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে পাওলো মালদিনির অবস্থানও এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। নবনিযুক্ত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনির নেতৃত্বে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর লুসিয়ানো স্পালেত্তির উত্তরসূরি হিসেবে পিরলোই ছিলেন সবচেয়ে জোরালো প্রার্থী।
উপদেষ্টা লিওনার্দোর সঙ্গে মিলে মালদিনি সাবেক জুভেন্টাস কোচকে আজ্জুরিদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের জন্য আদর্শ প্রার্থী মনে করেছিলেন। তবে শুরুতে সহজ মনে হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন জটিল হয়ে উঠেছে। এর কারণ রাশিয়ার বেটিং কোম্পানি ফনবেটের সঙ্গে পিরলোর সম্পর্ক।
তিনি এই কোম্পানির গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন। ইউনাইটেড এফসির প্রেসিডেন্ট সের্গেই লোমাকিনের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিতর্ক ফুটবল অঙ্গন ছাড়িয়ে নতুন নির্বাচিত ইতালি ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি মালাগোর জন্যও রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
ফেডারেশনের ফুটবল বিভাগের সমর্থন পেলেও ক্রমবর্ধমান সমালোচনার কারণে পিরলোর নিয়োগ শেষ পর্যন্ত এগোবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, পিরলোর রাশিয়া সংযোগ নিয়ে উদ্বেগকে কারণ দেখিয়ে মালদিনির সুপারিশ বাতিল করে আরও প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, রবার্তো মানচিনি এবং আন্তোনিও কন্তেসহ বিকল্প বিভিন্ন অপশন খতিয়ে দেখছেন মালাগো। তবে দুজনকেই নাকচ করে দিয়েছেন মালদিনি।
তার মতে, কন্তে স্বল্পমেয়াদি নিয়োগের জন্য উপযুক্ত, কারণ তার প্রকল্প সাধারণত দুই মৌসুমের বেশি স্থায়ী হয় না। অন্যদিকে ২০২৩ সালে জাতীয় দল থেকে বিতর্কিতভাবে সরে যাওয়ার পর মানচিনিকে নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি মালদিনির নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সাবেক এসি মিলান পরিচালক মালদিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই যে, ইতালির পরবর্তী কোচ নির্বাচনে তার যথেষ্ট প্রভাব থাকবে।
সেই ক্ষমতা খর্ব হলে প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিনি পুরো প্রকল্প থেকেই সরে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
পিরলো শেষ পর্যন্ত কোচ না হলে মালদিনি এবং ফেডারেশনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক মিলান কর্মকর্তা লিওনার্দো।


